বঙ্গ-নিউজঃ শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্রমাগত বাণিজ্যিকীকরণের কারণে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গবেষক মুনাফার জন্য গবেষণা করেন বলে মন্তব্য করেছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট আয়োজিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কনভেনশন উদ্বোধন করে একথা বলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক।
তিনি বলেন, “বাণিজ্যিক ও মুনাফার বিষয় যখন প্রধান হয়, তখন একজন বিজ্ঞানীর মূল লক্ষ্য থাকবে কোন বিষয়টি গবেষণা করলে এবং কোন ধরনের রিপোর্ট লিখলে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে।
“সুন্দরবনবিনাশী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে ক্ষতি হবে, এটা লিখলে কি আমার মুনাফার জন্য, ক্যারিয়ারের জন্য বেশি লাভজনক? নাকি রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র হলে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না, সেটা লেখা মুনাফার জন্য সুবিধাজনক?
রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ঠেকাতে সরব অর্থনীতির শিক্ষক আনু মুহাম্মদ বলেন, “আমরা দেখি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন এক ধরনের গবেষক তৈরি হচ্ছে, তারা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কর্পোরেট গ্রুপের, বহুজাতিক কর্পোরেশনের একেকটা ইন্সট্রুমেন্ট… নাট-বল্টুতে পরিণত হয়েছেন।
“বিশেষজ্ঞরা যখন নাট-বল্টুতে পরিণত হন তখন মুনাফাকেন্দ্রিক পুঁজিবাদী বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলোর পূর্ণ বিজয় সাধিত হয়।”
উচ্চ শিক্ষায় ‘পাঁচগুণ বেতন বাড়ানোর’ প্রতিবাদ ও ইউজিসির ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র বাতিলের দাবিতে ওই কনভেনশন আয়োজন করে ছাত্রফ্রন্ট।
অনুষ্ঠানে সম্প্রতি শিক্ষার্থী বেতন ‘পাঁচগুণ বাড়ানো’ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “টাকা নাই, পয়সা নাই একথা বলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যে সম্পদ চুরি হয় এবং পাচার হয় সেটা ৯০ হাজার কোটি টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ কোটি টাকার মতো। এই টাকাটা শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পাঁচগুণ বেশি।
“তারা পাঁচগুণ ফি বাড়ানোর কথা বলছে, আমরা দেখাচ্ছি যত টাকা শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করা হয় তার পাঁচগুণ অর্থ সরকারের যে তত্ত্বাবধানে, পৃষ্ঠপোষকতা যে গোষ্ঠী আছে তারা পাচার করে।”
আনু মুহাম্মদ বলেন, “জিডিপির শতকরা ছয় ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের দাবি আছে। সেই দাবি পূরণে সম্পদের কোনো অভাব বাংলাদেশের নাই। এখন যে বরাদ্দ দেওয়া হয় সেটা জিডিপির দুইভাগের মতো, তার তিনগুণ যদি বাড়াই তাহলে সেটা হয় ছয় ভাগ।
“তিনগুণ যদি বাড়ানো হয় তাহলে খুবই মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষার জন্য অবকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ, লাইব্রেরি, ইনস্ট্রুমেন্ট তৈরি করার… সেখান থেকে উচ্চশিক্ষাকে এমন করা যাবে, সেটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।”
সম্পদের অভাব না থাকলেও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে সম্পদের অভাব দেখানো হয় বলে মন্তব্য করেন অর্থনীতির এই অধ্যাপক।
তিনি বলেন, “অভাবটা হচ্ছে রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের। যারা ধর্ষকদের পক্ষে রাজনৈতিক অবস্থান নেয়, খুনিদের পক্ষে রাজনৈতিক অবস্থান নেয়, তাদের পক্ষে খুনি-ধর্ষকদের বিচার করা সম্ভব না; সেভাবে সম্পদ পাচারের বিচার করাও সম্ভব না।”
ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি নাঈমা খালেদ মনিকার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাইফুজ্জামান সাকন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্নেহার্দ্রী চক্রবর্তী রিন্টু।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০০:০৯ ৩৫২ বার পঠিত