
বঙ্গ-নিউজঃ বিশেষ প্রতিবেদনঃ এক্টিনো রিসার্চ ইনকর্পোরেট অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কৃষি ক্ষেত্রসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।
এক্টিনো রিসার্চ ইনকর্পোরেট এর চেয়ারম্যান কানাডা প্রবাসী বিজ্ঞানী ড. ইসমেত আরা অতিসম্প্রতি কুইকনিউজবিডি.কম’কে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেছেন। তিনি কানাডা ও বাংলাদেশে তার বেসরকারী সংগঠন এক্টিনো রিসার্চ ইনকর্পোরেট’কে কার্যকর ভূমিকায় পরিণত করতে খোলামেলাভাবে কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নে এই মুহুর্তে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে তরুণ ও যুবক সম্প্রদায়। তারুন্যিক উদ্দিপনায় ভরপুর নারী-পুরুষদেরকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিনত করে দেশ গড়ার কাজে লাগানোর জন্যেই এক্টিনো রিসার্চ ইনকর্পোরেট ব্যাপক কর্মসূচী নিয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ।
এই প্রসঙ্গে এক্টিনো রিসার্চ ইনকর্পোরেট এর চেয়ারম্যান অনুজীব বিজ্ঞানী ড. ইসমেত আরার মূল স্লোগান “হেলদি সয়েল, হেলদি ফুড, হেলদি ইনভায়রনমেন্ট” অথাৎ সুস্থ্ মাটি, বিশুদ্ধ খাবার ও পরিবেশ বি-নির্মানে এক্টিনো রিসার্চ ইনকর্পোরেট মুলত কাজ করবে।
তিনি একটু ব্যখ্যা করে বলেন, বাংলাদেশের মাটি এখন ক্রমান্বয়ে অনুর্বর হয়ে যাচ্ছে। আমাদের অজ্ঞতা, অবহেলা, অযত্ন আর নানান বিষপ্রয়োগে সুজলা, সুফলা শষ্য শ্যামলাখ্যাত বাংলার মাটি আজ খুবই অসুস্থ। দিন দিন রুগ্ন হয়ে পড়ছে। এই মাটিকে সুস্থ্ করতে হবে। অধিক ফসল প্রাপ্তির লক্ষ্যে আমরা রাসায়নিক সার ও কীটনাষক ব্যবহার করে মাটিকে বিষাক্ত করে ফেলছি। জীব-বৈচিত্রকে আমরা দিনের পর দিন খুন করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের প্রকৃতি থেকে ইতোমধ্যেই আমরা অনেক চেনা জানা প্রাণী ও উদ্ভিদকে বিদায় করে দিয়েছি চিরতরে। স্বভাবতই একারণে ভারসাম্যহীনতায় বাংলাদেশের মাটি প্রতিনিয়ত উর্বরা শক্তি হারিয়ে ফেলছে।
ড. ইসমেত আরা আশাবাদী হয়ে আরও বলেন, প্রতিবিধানও আছে। মানুষ যেমন নিত্যনতুন রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে তেমনিভাবে প্রতিষেধক ও সু-চিকিৎসাও আবিস্কৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের অনুর্বর মাটিকে উর্বর করার জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে যাচ্ছি। কিছু কিছু ব্যাক্টেরিয়া আছে যা মাটিকে উর্বর রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মাটি থাকে সুস্থ্। আমার কাজ হলো এক্টিনো রিসার্চ ইনকর্পোরেট এর মাধ্যমে জনসচেতনতাবৃদ্ধি, কৃষকসহ দেশবাসীকে আমাদের প্রাণপ্রিয় এই মাটিকে উর্বর করে তোলার জন্য হাতে কলমে প্রশিক্ষণ অতঃপর দক্ষ করে গড়ে তোলা।

বর্জ্য থেকে প্রাণের স্ফুরণ ঘটাবে এক্টিনো রিসার্চ ইনকর্পোরেট
অনুজীববিজ্ঞানী ড.ইসমেত আরা দৃঢ়চেতা কন্ঠে বলেন, দিস ইজ দ্য টাইম। এখনই সময়, বিলম্ব করা যাবেনা। এখনই আমাদেরকে শুরু করতে হবে। বাংলাদেশের মাটি সুস্থ থাকলে ফসল সুস্থ্ ও অধিক হবে, পরিবেশ সুস্থ্ থাকবে, অতঃপর সুস্থ্ সবল একটি জাতি, একটি সুস্থ্ বাংলাদেশ আমরা পাবো।
দীর্ঘ আলাপচারিতায় ড. ইসমেত আরা আশাবাদী হয়ে বলেন, এই প্রজন্মকে যুগপযোগী করে, দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। শুধু কৃষি ও পরিবেশগত উন্নয়নে নয়, দেশের বেকার, ভূমিহীন, মানসিক প্রতিবন্ধী/অটিস্টিক ও হিজড়াদেরকে নিয়েও আমি কাজ করতে চাই। তাদের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটাতে চাই।

ড. ইসমেত আরা কানাডা প্রবাসী হলেও বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিনিয়ত তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছেন দেশে তাঁর কিছু সহযোদ্ধার সঙ্গে। খুব দ্রুতই তিনি ব্যপক সারা পাচ্ছেন। বাংলাদেশের সকল মিডিয়ার কাছে তিনি কৃতজ্ঞ। সরকার ও দেশবাসীর কাছে তিনি দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। এক্টিনো রিসার্চ ইনকর্পোরেট’কে একটি সফল প্রতিষ্ঠান হিসেবে তিনি গড়ে তুলতে চান। এক্টিনো রিসার্চ ইনকর্পোরেটের সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করণের কাজ প্রায় শেষের পর্যায়। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, এক্টিনো রিসার্চ ইনকর্পোরেট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কয়েক মাস আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় কাজের ধারাবাহিকতা ব্যহত হয়েছে।

ড. ইসমেত আরা সর্বশেষে যে বিষয়টি অবহিত করেন, তাতে ঢাকাবাসীর স্বস্তি প্রকাশের বিষয় আছে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রতিদিন সংগৃহীত বর্জ্য বা গারবেজ’কে রিসাইক্লিন অতঃপর কম্পোস্ট করে উর্বর মাটি বানানো যাবে। যে মাটি দিয়ে ঢাকার পার্শ্ববর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোকে উর্বর আবাদী জমিতে পরিণত করা যাবে।সবশেষে তিনি কুইকনিউজবিডি.কম’কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন খুব শিঘ্রই আপনারা আমাদের কার্যক্রম দেখতে পাবেন।
উৎসঃ কুইকনিউজবিডি.কম
বাংলাদেশ সময়: ১১:০২:০৭ ৪১২ বার পঠিত